
সোলার সেচের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় আইইবির সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রতিবেদক: হরিষ চন্দ্র দাম, ঢাকা
ঢাকাস্থ ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সেমিনার হলে সোলার সেচ ব্যবস্থার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারের শিরোনাম ছিল—
“Prospect and Challenges of Solar Irrigation in Bangladesh”।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী এমডি সারওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বিএডিসি। তিনি সেচ পাম্প চালানোর ক্ষেত্রে সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও এমপিপিটি কন্ট্রোলার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরের সেচ মৌসুমে প্রায় ১২.২৮ লক্ষ ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ, অগভীর নলকূপ ও এনএলপি সিস্টেমকে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে ডিজেল ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
পিডিবির এপ্রিল ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যাস, ডিজেল ও জলবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদনযোগ্য বিদ্যুতের জেনারেশন ক্যাপাসিটি ছিল ২২,৪৮২ মেগাওয়াট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্যাপাসিটি ছিল ১,৬৯০.৬৭ মেগাওয়াট।
সেমিনারে জানানো হয়, ইডকল বিশ্বব্যাংক, ইউএসএআইডিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় দেশে সোলার সেচ পাম্প স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সেমিনারে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী এমডি বেলাল সিদ্দিকি, সেক্রেটারি, এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি।
কৃতজ্ঞতা বক্তব্য প্রদান করেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ সারোয়ার মাওলা, ভাইস চেয়ারম্যান, এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি।
সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী গোলাম মওলা, চেয়ারম্যান, এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন, আইইবি।
স্বাগত বক্তব্য দেন সাব্বির আহমেদ ওসমানী, সম্মানী সাধারণ সম্পাদক (চলতি দায়িত্ব), আইইবি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ আলমগীর মোরশেদ, নির্বাহী পরিচালক ও সিইও, ইডকল;
প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদীউল আলম সরকার, প্রধান প্রকৌশলী, বিএডিসি;
এবং ড. আশরাফুল আলম, মেম্বার (যুগ্ম সচিব), রিনিউএবল এনার্জি, এসরেডা (SREDA)।
প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী খান মঞ্জুর মোর্শেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাডমিন ও ইন্টারন্যাশনাল), আইইবি।
সেমিনারে বক্তারা সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা তুলে ধরেন এবং সোলার সিস্টেম সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করতে কর হ্রাসের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। এছাড়াও ২০৩০ সালের মধ্যে ৭,৫০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ স্থাপনের বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিএডিসির চেয়ারম্যান অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
সেমিনারের শেষে অতিথিদের মাঝে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।