
📰 সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের মহাসমাবেশ: জনসমুদ্রে রূপ নিল রাজধানী
📅 ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫ | সত্যকণ্ঠ সংবাদ ডেস্ক
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জাতীয় সমাবেশ ২০২৫’ শীর্ষক এই মহা-আয়োজনে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকামুখী মিছিল, স্লোগান ও মানুষের ঢলে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্র।
সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টা ৪০ মিনিটেই সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সূচনা হয় সমাবেশের। উপস্থাপনায় ছিলেন সাইফুল্লাহ মানসুর। একে একে বিভিন্ন বিভাগের সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয় আয়োজনে।
🛠️ সমাবেশ প্রস্তুতি ও আয়োজন:
মঞ্চ নির্মাণ, অতিথিদের আসন, মাইক, এলইডি স্ক্রিনসহ সকল লজিস্টিক প্রস্তুতি মধ্যরাতেই সম্পন্ন হয়। পুরো উদ্যানজুড়ে বসানো হয় দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’। অতিথিদের জন্য লাল কার্পেট ও ছাউনিযুক্ত আসনের ব্যবস্থা করা হয়। শহীদ পরিবার ও প্রবাসী প্রতিনিধিদের জন্যও নির্দিষ্ট আসন রাখা হয়।
🚍 জনসমাগম ও অংশগ্রহণ:
সারাদেশ থেকে লাখো নেতাকর্মী ঢাকায় এসে জমায়েত হন। শাহবাগ, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, পলাশী, টিএসসি হয়ে উদ্যানে আসে একের পর এক মিছিল। প্রতিটি মিছিলে ছিল দলীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকা, কেউবা জামায়াতের মনোগ্রামখচিত পোশাকে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে আসা সোহেল হাসান জানান, “আমাদের উপজেলা থেকেই ৪০টি বাসে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী এসেছেন।” সিরাজগঞ্জ থেকে আসা এরশাদ আলী বলেন, “আমরাও ৩০-৪০ হাজার লোক নিয়ে এসেছি।”
অনেকেই আগের রাতেই অবস্থান নেন উদ্যানের আশপাশে।
🛡️ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা:
দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে গেট পয়েন্টে কর্মীদের গাইড করা হয়। সমাবেশস্থলে স্থাপন করা হয়—৩৩টি এলইডি স্ক্রিন, ৩০০ মাইক, শতাধিক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, মেডিকেল বুথ ও নামাজের জায়গা। খাবার পানির ব্যবস্থাও করা হয়।
📢 দাবি ও বক্তব্য:
জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,
“এই সমাবেশে আমাদের সাত দফা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। ইনশাআল্লাহ, স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম হবে এখানে।”
🔖 সাত দফা দাবির মূল বিষয়সমূহ:
📌 রাজনৈতিক বার্তা:
আগে বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় সীমিত কর্মসূচি করলেও এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াত তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বার্তা দিতে চায়।
দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, “এই সমাবেশ হতে পারে আগামী জাতীয় নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”