
রক্তরঞ্জিত জুলাই-৩: শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনে অচল রাজধানী
📍 স্টাফ রিপোর্ট | দৈনিক সত্যকণ্ঠ
🗓️ বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গত বছরের পেনশন স্কিম বাতিল ও কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল ৩ জুলাই। এ দিন ঢাকার শাহবাগ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজপথ, রেলপথ ও মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে, শিক্ষকরা ক্লাস কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেয়—কোটার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত জনগণের পক্ষে না এলে রাজপথেই ফয়সালা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী দুপুর আড়াইটার পর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জমায়েত হন। সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে ঢাবি, ঢাকা কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
✅ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়:
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান নেয় প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী।
✅ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজ:
তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন সাড়ে ৩টার দিকে। এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
✅ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি):
রেললাইন অবরোধ করে রাখা হয় এক ঘণ্টা। মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রাখা হয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে।
✅ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়:
কাফনের কাপড় পরে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ববি গেটসংলগ্ন মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকে।
✅ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
✅ সিলেটের শাবিপ্রবি:
নিজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
🔹 সারজিস আলম, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক, বলেন—
“মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলছি—সুবিধা দিন, গাড়ি দিন, কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করবেন না।”
🔹 ফারাবী রহমান শ্রাবণ, ঢাবির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, বলেন—
“৩০% কোটা কখনো সাম্যের প্রতীক হতে পারে না। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানাই—এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের পাশে দাঁড়ান।”
🔹 আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও তৎকালীন আন্দোলনকারী নেতা, জানান—
“আদালতের রায় আমাদের পক্ষে না এলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
৩ জুলাই ছিল আপিল বিভাগে কোটা সংক্রান্ত চূড়ান্ত রায়ের শুনানির দিন। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়—রায় ছাত্রসমাজের পক্ষে না গেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে।
এই আন্দোলন শুধু কোটা বা পেনশনের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি একটি সমতার রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল। জুলাই মাসে গর্জে ওঠা এই আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র, অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক প্রতীকী প্রতিবাদ।
📰 সত্য প্রকাশে আমরা সাহসী, আমরা সচেতন — দৈনিক সত্যকণ্ঠ