
নবীনগরে মনোনয়ন বিতর্কে সাত নেতার একত্রিত অবস্থান, পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির সমাবেশ
প্রতিবেদক: আরিফুর ইসলাম, নবীনগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থী এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে সরকারি হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বড় সমাবেশে এই অসন্তোষ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাদের একটি অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তৃণমূলের মতামত পুনর্বিবেচনার দাবিতে বৃহৎ সমাবেশের উদ্যোগ নেয়।
উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল করিম। এতে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাত নেতা—নাজমুল করিম, সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেএম মামুন অর রশিদ, এডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু সহ আরও কয়েকজন।
বক্তারা অভিযোগ করেন—ঘোষিত প্রার্থী এম এ মান্নান বিগত ১৭ বছর সক্রিয় মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে দেখা যায়নি এবং তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ দুর্বল। স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার ভূমিকা প্রত্যাশিত নয় বলেও মত দেন তারা। বক্তারা দাবি করেন—মনোনয়ন এখনো প্রাথমিক, তাই সাত মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হোক।
সমাবেশে বিএনপির অভ্যন্তরীণ চারটি গ্রুপিং স্পষ্ট হয়ে ওঠে—
১) অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান গ্রুপ
২) কাজী নাজমুল হোসেন তাপস গ্রুপ
৩) সাইদুল হক সাঈদ গ্রুপ
৪) তকদির হোসেন মো. জসিম গ্রুপ
এদিকে বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন—এ ধরনের অভিমান সময়ের সঙ্গে কেটে যাবে, অতীতেও সমালোচকদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করার উদাহরণ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “শেষ পর্যন্ত সবাই একত্রে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে।”
অন্যদিকে অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের সমর্থনে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের নিয়াজউল্লাহ, লিটন মিয়া, কবির মিয়া, কামাল মিয়ার নেতৃত্বে চরলাপাং এলাকা থেকে একটি নৌকা ভর্তি করে সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।