
চারুয়াপাড়া বিজিবি ক্যাম্প ও ধোবাউড়া থানা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ
প্রতিবেদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ১নং দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসী চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। রাত-দিন অবিরাম মাদক সরবরাহ ও পাচার কার্যক্রম চলার ফলে নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, মাদকচক্রের সঙ্গে চুরি-ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধও বেড়ে চলেছে, যা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকসেবন ও পাচার এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মহিলারা রাতে ঘর থেকে বের হতে ভয় পান, এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের ভয়াল ছায়া ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীরা একই সঙ্গে চুরি ও ডাকাতির সাথেও যুক্ত, ফলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাস্তবিক অভিযোগ অনুসারে, প্রধান পাচার রুটগুলো হলো—দক্ষিণ মাইজপাড়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে পূর্বদিকের রাস্তা হয়ে জাঙ্গাইলিয়া, নেওলাখাল, পশ্চিম সোহাগী পাড়া এবং আইনুল উলুম মাদ্রাসা পর্যন্ত এলাকা। এখান থেকে নেতাই নদী পার হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের বর্ণনায়, মাদক পরিবহনে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়—স্কুল ব্যাগে, পণ্যবাহী গাড়ির নিচে, এমনকি মোটরসাইকেলে নারীদের বসিয়ে মাদক বহনের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরবরাহের সময় হিসেবে ভোররাত, জুমার সময় ও গভীর রাত বেছে নেওয়া হয়।
গ্রামবাসীর দাবি, চারুয়াপাড়া বিজিবি ক্যাম্প ও ধোবাউড়া থানা পুলিশ যদি নিয়মিত টহল ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করে, তবে বড় আকারের চক্র ধরা পড়তে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, “আমাদের নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করুন, মাদকচক্রের রুটগুলো বন্ধ করুন।”
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, অনেকেই ভয় ও হুমকির কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না, তবে এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি স্থানীয়দের অভিযোগ ও তথ্যনির্ভর ভিত্তিতে তৈরি। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।