
প্রতিবেদক : আলম চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লা ৯ (লাকসাম–মনোহরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বিএনপিকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁ/পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সামিরা আজিম দোলা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালামকে (ধানের শীষ প্রতীক) সমর্থন জানান এবং তার পক্ষে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, তাঁর প্রয়াত পিতা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম আনোয়ারুল আজিম—বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য—দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালান। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থ, ঐক্য এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এখন থেকে তিনি এবং তাঁর সমর্থকরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য, এর আগে এই আসনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কোন্দল দেখা দেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লাকসামে গাড়িবহরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যাতে সামিরা দোলাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মো. আবুল কালাম বলেন, মনোনয়ন চাওয়া সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে, যা দলের ঐক্যের প্রমাণ। তিনি সামিরা আজিম দোলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, বড় দলে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া স্বাভাবিক বিষয়, তবে দলের স্বার্থই সবার ঊর্ধ্বে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, বিএনপি নেতা রশিদ আহমেদ হোসাইনীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।