
বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবেই—আশাবাদ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর
আগামী বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক আসরের বাকি আছে এখনও প্রায় পাঁচ মাস। তবে বিশ্বকাপের উত্তেজনা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। সেই উন্মাদনার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছে।
এই সফরে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। সে সময় তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম হয়তো বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো দল বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠবে—এই আশাই তাকে অনুপ্রাণিত করে। এবার সেই আশার কথায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিলেন খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফান্তিনোর কাছে এক অনুসারী জানতে চান, বাংলাদেশ কি কখনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে? শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেওয়া উত্তরে ফিফা সভাপতি আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই একদিন বিশ্বকাপ খেলতে পারে। তিনি জানান, নতুন দেশগুলোকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেওয়াই ফিফার অন্যতম লক্ষ্য।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ টেনে ইনফান্তিনো বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেপ ভার্দে, কনক্যাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও, এশিয়া অঞ্চল থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডান—এই দেশগুলো নতুন মুখ হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিফা সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুটবলপ্রিয় দেশ এবং এখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ফিফা বাংলাদেশে ফুটবল ও সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করছে। তার মতে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে ফিফা।
তবে এই আশাবাদ বাস্তবে কতটা রূপ নেবে, তা সময়ই বলে দেবে। বাস্তবতা হলো—বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে মাত্র একবার, সেটিও ১৯৮০ সালে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও এবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি লাল-সবুজের দল।
তবুও ফুটবলপ্রিয় জাতির স্বপ্ন বেঁচে আছে। হয়তো একদিন সত্যিই বিশ্বকাপের মঞ্চে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা—সেই আশাতেই তাকিয়ে আছে দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমী।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।