
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ডাকাত পুলিশের খাঁচায়
প্রতিবেদক: গাজী আল আমিন হোসেন, শ্যামনগর প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় চোর চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগের বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটে। শ্যামনগর উপজেলার আবাদচন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুজ্জামান (মন্টু) (৭১) ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামিসহ পলাতক কয়েকজন তাদের বাড়ির সামনে এসে পানি পান করার অনুরোধ জানায়। সরল বিশ্বাসে বাড়ির গ্রীলের তালা খুলে পানি দিতে গেলে তারা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে ফেলে।
এরপর আসামিরা বাদীর ছেলের শয়নকক্ষে থাকা পারটেক্স শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানায় মামলা নং-১৯, তারিখ-২৯/১২/২০২৫ ইং, ধারা-৩২৮/৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোডে একটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজীব-এর সরাসরি দিকনির্দেশনা এবং শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ অভিযান শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং বিকাল ৪টা ০৫ মিনিটে শ্যামনগর থানাধীন গৌরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছন এলাকা থেকে আবুল খায়ের বাবু ওরফে স্প্রে বাবু (২৬) এবং জাহাঙ্গীর (২০) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের বাবু ওরফে স্প্রে বাবুর বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় ৪টি, কালিগঞ্জ থানায় ৬টি, আশাশুনি থানায় ২টি, সাতক্ষীরা সদর থানায় ২টি, দেবহাটা থানায় ২টি, খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় ১টি, বাগেরহাট সদর থানায় ১টি, মাগুরার শ্রীপুর থানায় ১টি ও শালিখা থানায় ১টিসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে। অপর আসামি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় ৬টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে আসছিল। গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি ভয়ংকর চক্রের বড় অংশ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ আশা প্রকাশ করেছে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।