
সংবাদদাতা: কে. এম. রিয়াদ হোসেন, নাটোর প্রতিনিধি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে বুধবার তার নামাজে জানাজার দিন এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচার করা হয়।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এই গভীর শোকের মুহূর্তে আমি তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন।”
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।”
তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী ও নিখাঁদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।”
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি।”
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল তার নামাজে জানাজার দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছি। নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রায় ৪০ দিন ধরে ঢাকার বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৪১ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য, তিনবার প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।