
মনোনয়নপত্র জমা দিলেন আল্লামা সাঈদীর দুই ছেলে
প্রতিবেদক: জাহিদুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় পিরোজপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য মরহুম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই পুত্র।
পিরোজপুর-১ (আসন নম্বর ১২৭) থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (আসন নম্বর ১২৮) থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন শামীম সাঈদী। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় পুত্র নাসিম সাঈদী।
মনোনয়নপত্র দাখিলকালে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব, জেলা সেক্রেটারি জহিরুল হকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবু সাঈদ আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শামীম সাঈদী। তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী। জনগণের রায় পেলে ইনশাআল্লাহ এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করব।” তিনি অভিযোগ করেন, আল্লামা সাঈদীর ওপর অন্যায়ভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং চিকিৎসার নামে তাকে হাসপাতালে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অপরদিকে মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমাদের নির্বাচন করার কথা ছিল না, নির্বাচন করার কথা ছিল আল্লামা সাঈদীরই। আমরা তার ত্যাগ ও কষ্টের ইতিহাস বহন করছি। এলাকার মানুষ সেই ইতিহাস জানে। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।” এনসিপির সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে, তাই এই জোট অনিবার্য ছিল।
পিরোজপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন। অন্যদিকে পিরোজপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৩০৮ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৯৭৬ জন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।