
শহীদ ওসমান হাদী গুলিকাণ্ডের পর এনসিপি নেতা গুলিবিদ্ধ, সীমান্তে কড়া নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার
প্রতিবেদক: মোঃ আসাদুজ্জামান
শহীদ ওসমান হাদী গুলিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সংগঠনটির অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদার (৪২) গুলিবিদ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা এলাকায় মোতালেব শিকদারকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা মাথায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর হামলাকারীরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে কড়া নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বেনাপোলসহ যশোর জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত অংশগুলো সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং তল্লাশি কার্যক্রমে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া ভোমরা স্থলবন্দরসহ সাতক্ষীরা জেলার ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শহীদ হন। ওই ঘটনার পর থেকেই সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতালেব শিকদারের ওপর এই হামলাকে অনেকেই শহীদ হাদী হত্যাকাণ্ডের পর দ্বিতীয় বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।