
মোংলায় সড়ক দুর্ঘটনায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই নিহত
প্রতিবেদক: মো. রাজ হাওলাদার, মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা পৌর শহরে বেপরোয়া যানবাহনের দাপটে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। সর্বশেষ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে শহরের কবরস্থান রোডে ইজিবাইকের ধাক্কায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন মোকছেদুর রহমান হারুন (৪৭)। তিনি মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের ছোট ভাই এবং দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে ৭নং কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা হারুন পায়ে হেঁটে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের কাছে পৌঁছালে দ্রুতগামী একটি ইজিবাইক পেছন থেকে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার সহায়তায় ঘাতক ইজিবাইক ও এর চালক জাহাঙ্গীর মোড়লকে আটক করে পুলিশ।
মোংলা থানার (ওসি তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইজিবাইকসহ চালককে হেফাজতে নেয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা নথিভুক্ত হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
এদিকে এই দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌর প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় মোংলা শহরের সড়ক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৯টা এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যস্ত সময়ে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, অটো ও টমটমের দাপটে রাস্তায় হাঁটাচলা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক বছরে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের কারণে প্রায় দেড় শতাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাত-পাসহ বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়েছেন।
এছাড়া এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা পার্কিং এলাকা না থাকায় যত্রতত্র রাস্তা দখল করে রাখা হচ্ছে, যা যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নৈরাজ্য ও ধারাবাহিক দুর্ঘটনার জন্য মোংলার বাসিন্দারা সরাসরি পৌর প্রশাসনকে দায়ী করে অবিলম্বে শহরে যানবাহন চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।