
ঘেরের বাঁধ কাটা নিয়ে মোংলায় সংঘর্ষ—আহত ২, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
প্রতিবেদক: মো. রাজ হাওলাদার, মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ঘেরের বাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে চিলা ইউনিয়নের তেলিখালি গ্রামে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুদি দোকানদার ও ঘের মালিক মো. মনিরুল সরদার (৩৮) এবং তাঁর স্ত্রী লিপি বেগম (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দম্পতিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় নগদ ১২ হাজার টাকা এবং লিপি বেগমের গলার ৮ আনা স্বর্ণের চেন লুট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল জানান, গত ৯ ডিসেম্বর মনিরুল সরদার তাঁর ঘেরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজ বাঁধ কাটছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবেশী ঘের মালিক হাফিজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁর বিয়াই মো. দেলোয়ার বৈকের কাছে বিচার চান। পরে দেলোয়ার বৈকে ঘটনাস্থলে এসে মনিরুলকে গালিগালাজ করলে তিনি বাঁধ কাটা বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টির সমাধানে মনিরুল সরদার স্থানীয় দুই নেতা—চিলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোকন চৌকিদার ও ৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আজাদ হাওলাদারের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ১০ ডিসেম্বর বিচার হওয়ার কথা থাকলেও সময় পরিবর্তন করে ১৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। তবে দেলোয়ার বৈকে বিচার মানতে অস্বীকৃতি জানান।
এরই জের ধরে ১০ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে দেলোয়ার বৈকে (৪৫), হেমায়েত (৪০), হেদায়েত (৩৮), আমির হামজা (৪০)সহ আরও কয়েকজন মনিরুলের দোকানের সামনে হামলা চালায়। হামলায় মনিরুল ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা মনিরুল সরদার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর দোকান থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা এবং স্ত্রী লিপি বেগমের গলার ৮ আনা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় মনিরুলের পরিবার মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেছে। মোংলা থানার ওসি মানিক চন্দ্র গাইন জানান, “মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।