
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আসাদুজ্জামান
ইসলাম নারীর মর্যাদা, অধিকার ও সম্মানের বিষয়ে অন্য যে কোনো সভ্যতার তুলনায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছে। মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, আত্মমর্যাদা, শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা—সবক্ষেত্রেই কুরআন ও সুন্নাহ নারীর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। সমাজে নারীর প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ইসলামী নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের ওপর বিশেষজ্ঞ ও আলেম সমাজ জোর দিচ্ছেন।
নারীর প্রতি ন্যায়, সম্মান, সদ্ব্যবহার ও স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমে ইসলাম যে অধিকার নির্ধারণ করেছে তা প্রতিষ্ঠাই মূল করণীয়। নারী যেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে—এজন্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো:
১. ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়ন: নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞানার্জন ফরজ। তাই নারীদের ধর্মীয় ও আধুনিক উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
২. কন্যাসন্তানের মর্যাদা: জাহেলি যুগের কুসংস্কার পরিহার করে কন্যাসন্তানকে সম্মান, ভালোবাসা ও যত্ন প্রদান করা। রাসূল (সা.) বলেছেন—যে কন্যাসন্তান লালন-পালন করে, সে জান্নাতের অধিকারী হবে (মুসলিম)।
৩. সুন্দর দাম্পত্য জীবন: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সদাচরণ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ কুরআনে স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে (সূরা নিসা)।
৪. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: নারীর প্রতি অবিচার, নির্যাতন বা অবদমন ইসলাম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
ধর্মের নামে প্রচলিত ভুল ব্যাখ্যা, কুসংস্কার ও অবদমনমূলক ধারণা দূর করে কুরআন-সুন্নাহর প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। নারীর অধিকার খর্বকারী যেকোনো প্রথা ইসলামি নির্দেশনার আলোকে সংশোধন করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, মানবিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণ সম্ভব—যেখানে নারী তার সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সমস্ত অধিকার পূর্ণমাত্রায় ভোগ করতে পারবে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।