
ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়িতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ — হামলা ও লুটপাটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
প্রতিবেদক: মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী গ্রুপের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে হামলা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজামাল মেম্বারের নেতৃত্বে আয়োজন করা মানববন্ধনে প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি তোলায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মানববন্ধনটিকে “জনগণের প্রতিবাদ” হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত নাটক।
গত ২৫ নভেম্বর এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়া এক চোরের জবানবন্দিতে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। ধৃত চোর জানায়—প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনায় শাহজামাল মেম্বার, নুরু মিয়া, রঞ্জু, কবির ও উজির মিলে কুখ্যাত ডাকাত সরদার করিমের সঙ্গে চার লাখ টাকায় চুক্তি করে। অগ্রিম দুই লাখ এবং কাজ শেষে আরও দুই লাখ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে তারা একটি পিস্তল সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে তা ফায়ারও করে।
এই তথ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাপের মুখে পড়ে শাহজামাল–নুরু গ্রুপ। এরপরই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা উল্টো মানববন্ধন করে সাইদুর রহমানকে ‘অভিযুক্ত’ বানানোর চেষ্টা চালায়। আয়োজনে যুক্ত ছিলেন শাহজামাল, নুরু মিয়া, কৃষক লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন উজির এবং ডাকাত সরদার করিম—যারা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সুরুজ্জামাল মিয়া জানান, জনপ্রিয়তা বাড়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এই গ্রুপ প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে গ্রাম্য শালিশের কথা বলে ডেকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের কোপে তিনি গুরুতর আহত হলেও বাজারের মানুষের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে যান। তবে সামাজিক লজ্জা ও সম্মানের কারণে তিনি সেদিন কোনো মামলা করেননি।
এতেই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে হামলাকারীরা—এলাকাবাসীর দাবি, রাতের অন্ধকারে বাড়িঘরে হামলা, পথচারীকে মারধর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট এবং সড়কে বাধা সৃষ্টি—সব ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে এই গ্রুপ। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বলেন,
“জনপ্রিয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমানকে রাজনৈতিকভাবে হটাতেই এসব সাজানো নাটক। হামলা-মামলা দিয়ে পুরো এলাকাকে আতঙ্কে রাখা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান,
“মানুষের জন্য কাজ করাই আমার অপরাধ হয়ে গেছে। যারা বছরের পর বছর অত্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণেই আজ আমাকে হত্যার টার্গেট করা হয়েছে। আমার পরিবার ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি—সঠিক তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।