
নারী ও পুরুষকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে চাঁদা দাবি: নাজিরপুরে হেলাল সিকদারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রতিবেদক: জাহিদুল ইসলাম, পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ২ নম্বর মালিখালী ইউনিয়নের মিঠারকুল গ্রামে এক নারী (৩৫) ও পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ভিডিও ধারণ এবং পরে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হেলাল সিকদারসহ পাঁচজনের একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বারবার কাকুতি-মিনতি করলেও রক্ষা পাননি।
সম্প্রতি ওই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়—গৃহবধূ ও এক ব্যক্তিকে বিবস্ত্র করে বুকের ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। তাদের আর্তনাদ সত্ত্বেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী নারীর ভাশুরের ছেলে টুটুল সিকদার (৩২) নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সকলেই মৃত সাহেব আলী সিকদার ও মৃত মকবুল সিকদারের ছেলে এবং একই গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাড়িতে না থাকায় তাদের পরিচিত ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা তার বাড়িতে যান। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে উভয়কে বিবস্ত্র করে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে। পরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
টাকা দিতে না পারায় তারা ঘরে থাকা আনুমানিক দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
পরে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার চরম সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হয়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ভুক্তভোগী নারী বলেন,
“তারা ষড়যন্ত্র করে আমার মানসম্মান নষ্ট করেছে। আমি বাড়িছাড়া।”
অভিযুক্ত হেলাল সিকদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন,
“একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
প্রয়োজনে তুমি চাইলে সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, অন্য শিরোনাম, অথবা সংবাদপত্রের উপযোগী ফরম্যাট করে দিতে পারি।