
প্রতিবেদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা
কওমি মাদ্রাসা ঘরানা ও তাবলিগের বড় অংশের সমর্থন ভিত্তিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা আট দলীয় প্ল্যাটফর্মে সংখ্যার দিক থেকে বড় রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলামী। অতীতে দলটির একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাদের সাংগঠনিক অবস্থানও তুলনামূলক শক্ত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, তারা আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের সমানসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জামায়াতের সমানসংখ্যক আসনে প্রার্থী দেওয়া। ৩০০ আসনের জন্যই আমাদের প্রস্তুতি আছে, এর মধ্যে প্রায় ২০০ আসনে আমরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী মনে করি।” তবে শেষ পর্যন্ত আসনসংখ্যা সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, জামায়াত–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তারা ২০০–র বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় এবং সারাদেশে নিজেদের সংগঠনকে শক্ত ভিত্তিতে মনে করছে। সাম্প্রতিক খুলনা সমাবেশে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সমঝোতার কারণে প্রয়োজনে কিছু আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে, তবে অন্তত ২০০ আসনে আমরা প্রার্থী দিতে চাই।”
জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণ শাখার এক শুরা সদস্য জানান, সমঝোতা ধরে ২৩৩–২৪০ আসনের মতো আলোচনা হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রায় ২০০ আসনেই নির্ধারিত হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ জানান, তাদের প্রায় ১৫০ আসনে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো নিশ্চিত নই কত আসন পাবো। তবে যেখানে যার প্রার্থী দেওয়া হবে, আট দলের কর্মীরাই একসঙ্গে কাজ করবে।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, তারা সর্বোচ্চ সমঝোতার ভিত্তিতেই প্রার্থী দেবেন। তাঁর ভাষায়, “ডিসেম্বরে যৌথভাবে প্রার্থী ঘোষণা করতে চাই। আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কোথায় জয়ের মতো জনসমর্থন ও সক্ষমতা রয়েছে। যে দল থেকেই প্রার্থী দেওয়া হোক, আমরা মাঠে কাজ করবো এবং প্রয়োজনে নির্বাচনী ব্যয়ও ভাগাভাগি করবো।”
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।