
রাজনগরে টেংরা-তারাপাশা সড়ক বাঁচাও ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন—১১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে দূর্নীতির অভিযোগ
প্রতিবেদক: রিপন কান্তি ধর, জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ টেংরা-তারাপাশা সড়কে নিম্নমানের কাজ, নকশা পরিবর্তন ও সরকারের ১১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে বৃহৎ দুর্নীতির অভিযোগ এনে সড়কটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে হরিপাশা বাজারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ‘টেংরা-তারাপাশা সড়ক বাঁচাও!’ ব্যানারে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের সচেতন জনতার আয়োজিত এই সম্মেলন হরিপাশা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মাতাব-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সূচনা বক্তব্য রাখেন হরিপাশা বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন। তিনি সড়কটিকে “চরম দুর্নীতির শিকার” দাবি করে লাখো মানুষের ভোগান্তি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের চিত্র তুলে ধরেন।
সঞ্চালনায় ছিলেন হাফিজ সেজু আহমদ। বক্তব্য রাখেন তারাপাশা ব্যবসায়ী কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম বাবু, বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ময়না মিয়া, ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওলীউর রহমান, জামায়াতে ইসলামী টেংরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মর্তুজ মিয়া ও জান্নাত গ্রুপ হরিপাশার সচিব জাকির হোসেন শাকিব।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১১ কোটি ৬১ লক্ষ ২১ হাজার ১৮৭ টাকার মেগা প্রকল্পে ব্যাপক নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন কার্পেটিংয়ের কাজে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ ইসরাইল হোসেন অসন্তুষ্ট হয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে নিম্নমানের কাজই দ্রুত শেষ করা হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে জান্নাত গ্রুপ হরিপাশার সচিব জাকির হোসেন শাকিব বলেন, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী নাহিদ শিকদারের যোগসাজশে মূল সরকারি ১৩০০ মিটার সড়কে কাজ না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ৯০০ মিটার অংশে কাজ করা হয়েছে। এতে বাঁধের ইটসলিং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পাঁচটি গ্রামের প্রধান প্রবেশপথ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জামায়াত নেতা মর্তুজ মিয়া অভিযোগ করেন, নকশা পরিবর্তন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। মনু ব্রিজের দক্ষিণ পাশে রাস্তার প্রস্থ ১৬ ফুট থেকে ১৮ ফুট করা হলেও হরিপাশা বাজার এলাকায় তা কমিয়ে ১৪ ফুট ৬ ইঞ্চি করা হয়েছে—যা ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওলীউর রহমান বলেন, সড়কটির ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৫ টন। তাই অতিরিক্ত লোডবাহী যান চলাচল অবিলম্বে বন্ধ না হলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক আবারও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তিনি সম্প্রতি শেষ হওয়া RCC ঢালাইয়ের টেকসই করতে নিয়মমাফিক ২৮ দিন পানির কিউরিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ী ও বাজার পরিচালনা কমিটির নেতারা দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নকশা থেকে বাদ পড়া মূল ১৩০০ মিটার সড়কের কাজ মানসম্মতভাবে পুনরায় শুরুর দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মতিউর রহমান মাতাব বলেন, ২০১৫ সালে প্রথম পিচ কার্পেটিংয়ের পর থেকেই সড়কটির বেহাল দশা শুরু হয় এবং নিয়মিত দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। ২০২০ সালের মেরামতকৃত সড়ক ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে যায়। তিনি উজিরপুরে ট্রাক উল্টে এক ড্রাইভারের মৃত্যু এবং সড়কে যানজটের কারণে এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন—“এই সড়কের ভোগান্তি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানুষের জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।