
প্রতিবেদক: আলম চৌধুরী, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা)
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
মহড়াটি আয়োজন করে কুমিল্লা সেনানিবাসভিত্তিক ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৫ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন। চট্টগ্রাম বিভাগের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই ডিভিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা ও অশান্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই মহড়া আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মনোহরগঞ্জকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে চারটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এই মহড়াটি ছিল একটি পরিস্থিতিনির্ভর (situational exercise) অনুশীলন। এতে একটি কাল্পনিক দৃশ্যপট তৈরি করা হয়, যেখানে দেখানো হয়—নির্বাচনের দিন একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি মিছিলের আড়ালে ভোটকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ ভোটারদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং তারা ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে।
মহড়ায় আরও দেখানো হয়, হামলাকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনগণের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করলে টহলরত সেনাসদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং উচ্ছৃঙ্খলদের নিষ্ক্রিয় করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার সহায়তা প্রদান করা হয়।
এই মহড়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া, পেশাদারিত্ব এবং পুলিশ, বিজিবি সহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরও জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—কেন্দ্র দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা যেকোনো ধরনের অরাজকতা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখা।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর এ ধরনের প্রস্তুতি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকা পরিদর্শন করে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের নির্দেশনা দেন। কুমিল্লা অঞ্চলে এরই মধ্যে টহল ও যৌথ অভিযান বাড়ানো হয়েছে।
এই মহড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনীর দৃঢ় প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।