
শুধুমাত্র পূণ্যার্থী অংশগ্রহণে শুরু হলো সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব
প্রতিবেদক: মো. রাজ হাওলাদার, মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে এবার সুন্দরবনের দুবলার চরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক রাস উৎসবে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা উৎসবে অংশ নিতে পারবেন।
বঙ্গোপসাগর তটবর্তী দুবলার চরের রাস উৎসব আগামী ৩ নভেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো আলোরকোলে নির্মিত অস্থায়ী মন্দিরে পূজা এবং ৫ নভেম্বর ভোরে সাগরের প্রথম জোয়ারের লোনা জলে পূণ্যস্নান।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর আগে হিন্দু সন্ন্যাসী হরভজন দাস এই রাস পূজার সূচনা করেন। পরবর্তীতে ‘দুবলার চরের রাস মেলা’ ধর্মীয় ও পর্যটন দিক থেকে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে। তবে অবাধ যাতায়াত, হরিণ শিকার ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে ২০১৭ সালে মেলার কার্যক্রম সীমিত করা হয়। এরপর থেকে উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও পূণ্যস্নানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, উৎসবের মূল মন্দির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পূণ্যার্থী সেখানে এসে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করবেন এবং ৫ নভেম্বর ভোরে পূণ্যস্নান শেষে প্রত্যেকেই নিজ গন্তব্যে ফিরবেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, এবছর বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। কোনো পর্যটক বা অনুমোদনবিহীন ব্যক্তি উৎসবে অংশ নিতে পারবেন না। এর ফলে পূণ্যার্থীর ছদ্মবেশে প্রবেশ এবং বনাঞ্চলের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।