
জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াত বিরোধ, কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার?
প্রতিবেদক: ইসলামাইল হোসেন, চিফ স্টাফ রিপোর্টার
গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে একে অপরকে লক্ষ্য করে সমালোচনায় মুখর। অন্যদিকে এনসিপি সংস্কার ইস্যুতে বড় দুই দলের অবস্থান এবং সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছে।
এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নেপথ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে চারজন উপদেষ্টা ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে দুই দফা করে আলোচনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।
সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। অপরদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, নির্বাচনের আগে গণভোট না হলে তা তারা কোনোভাবেই মানবেন না। একই দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সরকার সমঝোতার লক্ষ্যে দুটি প্রস্তাব সামনে এনেছে—বিএনপিকে পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে সম্মতি দিতে এবং জামায়াতকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে মেনে নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু উভয় দলই এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সূত্র মতে, সমঝোতার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬১টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। সংবিধান সংশোধন, গণভোট ও উচ্চকক্ষ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।