1. hannan.sottokontho@gmail.com : Hannan Shekh : Hannan Shekh
  2. rabiulkarim@sottokhontho.com : Rabiul Karim : Rabiul Karim
সাহিত্য পাঠ: মানবিক মানুষ গড়ে তোলার এক নিরব প্রভাবক - সত্যকণ্ঠ সংবাদ    
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
যে শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করবে ইরান এবার শাকিবের সঙ্গে ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী সৌদি প্রো লিগে যোগ দিলেন মেসি মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান টক্কর যেখানে সেয়ানে-সেয়ানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, আহত ২ মৌলভীবাজারে দেয়ালঘড়ির গণসংযোগে দক্ষিণ সুরমা মজলিস সভাপতির অংশগ্রহণ নিরাপদ ও উন্নয়নবান্ধব নবীনগর গঠনের লক্ষ্যে নজুকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম — পীর সাহেব চরমোনাই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে হিলিতে রেলওয়ে কর্মচারীদের কর্মবিরতি জলঢাকায় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসএফটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, অনিশ্চয়তায় কাজের ভবিষ্যৎ

সাহিত্য পাঠ: মানবিক মানুষ গড়ে তোলার এক নিরব প্রভাবক

  • আপডেটের সময়: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২৯ ভিউ
সাহিত্য পাঠ: মানবিক মানুষ গড়ে তোলার এক নিরব প্রভাবক

সাহিত্য পাঠ: মানবিক মানুষ গড়ে তোলার এক নিরব প্রভাবক

✍️ মোঃ আল-আমীন শেখ, শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, গোবিপ্রবি

আজকের দিনে যখন মানুষ প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তখন মানবিকতার চর্চা অনেকাংশে হারিয়ে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সাহিত্য পাঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানুষ হওয়ার মৌলিক দায়িত্ব ও সহানুভূতির অনুভব। সাহিত্য কেবল আনন্দ বা বিনোদনের উৎস নয়; এটি এক গভীর শিক্ষার ক্ষেত্র, যেখানে আমরা নিজেদের ও অন্যদের জীবনের অভিজ্ঞতা বুঝতে শিখি।

সাহিত্য পাঠ আমাদের মনে সহমর্মিতা জাগায়। গল্প বা কবিতার চরিত্রগুলো যখন কষ্ট পায়, আনন্দ পায়, ভালোবাসে বা হারায়, তখন পাঠক হিসেবে আমরা তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাই। এই অনুভূতিই আমাদেরকে অন্যের অবস্থানে দাঁড়িয়ে ভাবতে শেখায়। এক কথায়, সাহিত্য মানুষকে মানুষের ব্যথা-বেদনা বুঝতে সাহায্য করে। সমাজে সহানুভূতির যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা পূরণের জন্য সাহিত্য পাঠের বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে সাহিত্য আমাদের চিন্তা-ভাবনার জগৎ প্রসারিত করে। এটি শুধু সৌন্দর্যের চর্চা নয়, চিন্তার অনুশীলন। সাহিত্যের মাধ্যমে আমরা শিখি প্রশ্ন করতে, অন্য মতকে সম্মান করতে এবং নিজের মত প্রকাশে সাহসী হতে। সাহিত্য পাঠ মানুষকে কেবল আবেগপ্রবণ করে তোলে না, বরং যুক্তিবাদীও করে। কবিতা, উপন্যাস, নাটক কিংবা প্রবন্ধ—সবই সমাজের মূল্যবোধ ও বাস্তবতার প্রতিফলন। ফলে সাহিত্য পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করি।

ভাষার শুদ্ধতা ও প্রকাশক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহিত্য পাঠের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিয়মিত সাহিত্য পাঠ করলে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীরা শিখে কীভাবে একটি বাক্যকে সংবেদনশীল অথচ স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী লেখালেখি বা বক্তৃতায় দুর্বল থাকে, যার অন্যতম কারণ সাহিত্য থেকে দূরে থাকা।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কেবল প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়ে মানুষকে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নৈতিকতা, মানবিক বোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা—এসব শিক্ষা দেয় সাহিত্য। সঠিকভাবে সাহিত্য পাঠ শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো গবেষক বা প্রকৌশলী নয়, মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে।

সাহিত্য পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজের বাস্তবতা বুঝতে শেখে। তারা উপলব্ধি করতে পারে প্রযুক্তি বা বিজ্ঞান মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। সাহিত্য মানুষকে মানবিক মূল্যবোধে স্থিত করে, যাতে সে অন্যের ক্ষতি না করে বরং মঙ্গলচিন্তা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই সভ্য সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, সাহিত্য পাঠের আগ্রহ ক্রমেই কমছে। অনেকের কাছে সাহিত্য এখন অতীতের গল্প, যা আধুনিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে হয়। অথচ ঠিক এই সময়েই সাহিত্য সবচেয়ে প্রয়োজন। কারণ এটি আমাদের দ্রুতগামী যান্ত্রিক জীবনের মাঝে থামতে শেখায়, ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সাহিত্য পাঠের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য পাঠচক্র, আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ—এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানবিক চেতনা বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবিক মানুষ গড়ে তোলার জন্য সাহিত্য পাঠের বিকল্প নেই। এটি নিরবভাবে কাজ করে মানুষের মনের ভিতর, চিন্তার গভীরে। সাহিত্যের পাঠ আমাদের শেখায় কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে ক্ষমা করতে হয়, কিভাবে অন্যের দুঃখকে নিজের দুঃখ ভাবতে হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে সাহিত্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা মানুষ, আর মানবিক হওয়াই আমাদের সর্বোচ্চ পরিচয়।


সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© All rights reserved © 2025 sottokontho.com

Desing & Developed BY ThemeNeed.com