
নিশ্চিত—আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিরোনামসহ পূর্ণাঙ্গ সংবাদটি দৈনিক সত্যকণ্ঠ সংবাদ–এর নির্ধারিত ফরম্যাটে উপস্থাপন করছি 👇
প্রতিবেদক : স্টাফ রিপোর্টার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ করিম ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।
তিনি জানান, গত শনিবার রিমান্ড শেষে আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে রুবেলের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরদিন আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদিকে গুলি করার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় হত্যা (৩০২) ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগকর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিই ছিল হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য।
তবে ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেনি ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।