
🗳️ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ফর্মুলা যুদ্ধ: বিএনপি, কমিশন ও অন্যান্য দলের প্রস্তাবনায় ভিন্নতা
🗓️ ১৪ জুলাই ২০২৫ | ✍️ রাজনীতি প্রতিবেদক | 📰 সত্যকণ্ঠ সংবাদ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে ভিন্ন ভিন্ন ফর্মুলা দিয়েছে বিএনপি, ঐকমত্য কমিশন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল রোববার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ১১তম দিনের সংলাপে এ সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে আসে এসব প্রস্তাব।
🔶 বিএনপির প্রস্তাব: চার স্তরের ফর্মুলা
বিএনপি চার ধাপে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছে:
- সংসদ বিলুপ্তির ৩০ দিন আগে দলগুলোর আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।
- সফল না হলে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার-এর সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন।
- এবার কমিটিতে তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি যুক্ত হবে এবং রাষ্ট্রপতির ভোটাধিকার থাকবে।
- এরপরও ঐকমত্য না এলে ৫% ভোট পাওয়া দলগুলোর প্রতিনিধি দিয়ে চূড়ান্ত কমিটি গঠন হবে।
📌 বিকল্প:
যদি কেউ বাছাই না হয়, তাহলে ৭৫ বছরের কম বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে একজনকে সার্চ কমিটি সুপারিশ করবে।
❗ সমালোচনা:
- জামায়াত বলেছে, বিএনপির ফর্মুলা ত্রুটিপূর্ণ, কারণ রাষ্ট্রপতি নিয়োগকারী হয়েও কমিটিতে রয়েছেন।
- বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “বিচারপতিদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করাকে আমরা সাপোর্ট করি না। বিকল্প থাকতেই হবে।”
🔷 কমিশনের ফর্মুলা: জটিল কিন্তু ব্যালান্সড পদ্ধতি
- সংসদ ভাঙার ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব।
- সদস্যরা: সরকার ও বিরোধীদলের শীর্ষ নেতা, স্পিকার, হুইপ, তৃতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি।
- যদি ঐকমত্য না হয়, ১৪ জনের তালিকা তৈরি হবে, শুনানি হবে সংসদে।
- এরপর র্যাঙ্ক চয়েজ পদ্ধতিতে ভোটে ৫ জনকে বাছাই করে, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া হবেন প্রধান উপদেষ্টা।
🟢 দুই বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য:
- জরুরি অবস্থা জারি:
- রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন মন্ত্রিসভার অনুমোদনে, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে নয়।
- মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা উপনেতা উপস্থিত থাকবেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:
- সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত: আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি হবেন প্রধান বিচারপতি।
- কেউ আপত্তি করলে তা দলীয় ইশতেহারে উল্লেখ করে নির্বাচন জিতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাব কার্যকর করতে হবে।
⚖️ বিচার বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকার বিষয়ে মত:
- বিএনপি ও কিছু দল বলছে, বিচারপতিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে রাখা ঠিক নয়।
- জামায়াত বলছে, প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না।
- সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, “নিজেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রধান বিচারপতিরা আমলে নেবেন না।”
🟠 এনসিপি চায় উচ্চকক্ষে ভোট
- র্যাঙ্ক চয়েজ পদ্ধতিতে উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়ে বলেছে, সব দলের অংশগ্রহণে করা হোক নির্বাচন।
- জাবেদ রাসিন বলেন, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ে দলীয় প্রাধান্য নয়, জাতীয় ঐকমত্য জরুরি।”
📢 মূল বক্তব্য:
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নির্ধারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে চলছে নানা মত ও প্রস্তাব। কার ফর্মুলা গ্রহণযোগ্য হয়, তা নির্ধারিত হবে আগামী দিনের আলোচনায় ও ঐকমত্যে।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”