
🖋️ প্রতিবেদক: মোঃ রবিকুল ইসলাম, রিপোর্টার, উত্তরা | দৈনিক সত্যকণ্ঠ
ঢাকার উত্তরা এলাকায় ঘটে গেল এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা, যা যেন রীতিমতো সিনেমার স্ক্রিপ্টকেও হার মানায়। প্রতারণার শিকার হয়েছেন একজন সহজ-সরল মাছ ব্যবসায়ী মোঃ আঃ মোতালেব, যিনি প্রতিদিন শহরের এক কোনায় ফুটপাতে বসে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত ৩ জুলাই ২০২৫, রাতে এক ব্যক্তি মাছ বিক্রেতা মোতালেবের দোকানে এসে বিভিন্ন প্রকার মাছ কেনেন। মাছ নেওয়ার পর, ওই ব্যক্তি একটি মিষ্টির প্যাকেট, একটি ১ কেজি হুইল পাউডারের প্যাকেট ও একটি ওষুধের বক্স দোকানে রেখে দেন। তিনি বলেন, “একটু সামনে থেকে জরুরি একটি জিনিস কিনে আসি, তারপর এসে মাছের দাম দিয়ে জিনিসগুলো নিয়ে যাবো।”
সাধারণ বিশ্বাসে মোতালেব ভেবেছিলেন, যেহেতু লোকটি দামী বাজার সদায় রেখে গেছে, সে নিশ্চয় ফিরে এসে দাম পরিশোধ করবে। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় নাটকের মোড়!
মোতালেব রাত ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, কিন্তু প্রতারক আর ফিরে আসে না। একসময় কৌতুহলবশত মোতালেবের সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী রনি মিষ্টির প্যাকেট খুলে দেখেন—ভেতরে মিষ্টির বদলে ইটের খোয়া আর বালি, হুইল প্যাকেটে পাউডার নয়, বালি, এবং ওষুধের বাক্সে ঔষধ নয়, ছেঁড়া কাগজ!
এই বাটপার ক্রেতা এমন কৌশলে কাজ করেছে যেন সহজ-সরল বিক্রেতা কিছু বুঝতে না পারে। মোতালেব বিশ্বাস করেছিলেন যে লোকটি মূল্যবান কিছু রেখে গেছে, তাই নিশ্চিন্ত ছিলেন মাছের দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও প্রতারক ফেরেনি, আর মোতালেব পড়েছেন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে।
অনেকে বলছেন, এটি নতুন ধরনের এক “বাজার সদা রেখে টাকা না দেওয়া” প্রতারণা কৌশল। বিষয়টি সতর্কতা হিসেবে স্থানীয় বিক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
📢 সতর্কবার্তা:
“প্রতিটি ফুটপাতের দোকানদার যেন এমন বাটপারদের ফাঁদে না পড়েন—এই ঘটনা সবার জন্য সতর্কবার্তা। অচেনা ‘বিশ্বাস’ আজকাল সবচেয়ে বড় প্রতারণার অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
✍️ – দৈনিক সত্যকণ্ঠ
📰 “সত্য প্রকাশে আমরা সাহসী, আমরা সচেতন”