
✍️ মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার | সুনামগঞ্জ | দৈনিক সত্যকণ্ঠ
📆 ২৭ জুন ২০২৫
সুনামগঞ্জের আলোচিত শতকোটি টাকার যাদুকাটা বালুমহাল ইজারা নিয়ে বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এ দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা ও স্থানীয় ইজারাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় ঢাকায় ডিবি পুলিশের কিছু অসৎ সদস্যকে ব্যবহার করে নির্যাতন করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে সুনামগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব গভীর অভিযোগ তুলে ধরেন যাদুকাটা-১ বালুমহালের ইজারাদার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ নাছির মিয়া।
নাছির মিয়ার অভিযোগ,
“বৈধভাবে যাদুকাটা-১ বালুমহাল ইজারা নেয়ার পর হাইকোর্টে মামলা করেন সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া, যিনি আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ। পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানও হস্তক্ষেপ করেন।”
গত ২৫ জুন মামলার আপডেট জানতে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকায় গেলে ডিবি পুলিশের কিছু সদস্য তাকে তুলে নিয়ে যান মিন্টু রোড কার্যালয়ে। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আদায় করে জোর করে মুচলেকায় সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাছির মিয়া বলেন,
“সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু মহাল থেকে সরকার বৈধভাবে রাজস্ব পায়। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমি আগামীকাল আইজিপি বরাবর আবেদন এবং উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করব।”
মাহবুবুর রহমান এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো নাটক দাবি করে বলেন,
“আমার যাদুকাটা ইজারায় কোনো অংশ নেই। এটি সাজিয়েছে তাহিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। ঈর্ষাবশত এসব ঘটানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,
“একজন সহজ-সরল ব্যবসায়ীকে ডিবি অফিসে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ গুরুতর। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। হাজারো শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়েছে।”
যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারাদার শাহ্ রুবেল আহমেদ ফোনে জানান,
“আমি বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে, যদিও আমি কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই।”
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন বলেন,
“ডিবি পুলিশের নামে ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার বা নির্যাতনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল ১৪৩২ বাংলা সনে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা হয়। যাদুকাটা-১ পান মোঃ নাছির মিয়া, এবং যাদুকাটা-২ পান শাহ্ রুবেল। উভয়ের সঙ্গে বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। অতীতে এসব মহাল আওয়ামী লীগপন্থী ইজারাদারদের দখলে ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
📢 প্রতিবেদকের মন্তব্য:
সুনামগঞ্জের বালুমহাল ঘিরে চলা এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন শুধু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সময় এসেছে এই ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার।
📍দৈনিক সত্যকণ্ঠ
🕊️ “সত্য প্রকাশে আমরা সাহসী, আমরা সচেতন”