
প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তি।
সরকারি বিভিন্ন সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৯ থেকে ৩২-এর মধ্যে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা শতাধিক বলে দাবি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ‘লাশ গুম’ করার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে চরম উত্তেজনা ও জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যের গড়মিল
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২৯ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) দাবি করেছে, নিহত ৩১ জন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন এখনো অশনাক্ত।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ৬৯ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল হোসেনের বরাতে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় আহত ৬৯ জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ১১ জন, সিএমএইচ-এ ১৫ জন, ঢাকা মেডিক্যালে ১ জন, লুবানা জেনারেল হাসপাতালে ১ জন এবং ইউনাইটেড হাসপাতালে ১ জন মারা গেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব
বিভিন্ন ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সরকার লাশের সংখ্যা গোপন করছে এবং কয়েকটি লাশ ‘সরিয়ে ফেলা’ হয়েছে।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ মেহরাব হোসেন বলেন, “ছবির খণ্ডাংশ ও বানোয়াট পোস্ট দিয়ে জনমনে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমার বিশ্বাস, নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।”
এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি
সোমবার দুর্ঘটনার পর অনেক অভিভাবক সন্তানদের খুঁজতে স্কুলে ছুটে যান। নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, হেলিকপটার ব্যবহার করে লাশ গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ থেকেই শিক্ষক ও সেনা সদস্যদের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা পরে মীমাংসিত হয়।
স্কুল শিক্ষক যা বলছেন
মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক বিলকিস আরা আইরিন বলেন, “স্কুলে কারা উপস্থিত ছিল, সেটা রেকর্ডে আছে। কে মারা গেছে বা নিখোঁজ, তা নির্ধারণ করা খুবই সম্ভব।”
বিভ্রান্তি নিরসনে সময় লাগবে
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “তথ্য যাচাইয়ে কিছু সময় লাগবে, কারণ বিভিন্ন হাসপাতালে একাধিক মৃতদেহ স্থানান্তর হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মন্তব্য
শফিকুল আলম বলেন, “বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা গোপন করা কার্যত অসম্ভব। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির রেকর্ড যাচাই করে সঠিক সংখ্যা বের করা যাবে।”
প্রেস উইংয়ের বিবৃতি
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, নিহতদের নির্ভুল তালিকা প্রকাশে সরকার, সেনাবাহিনী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি
সঠিক তথ্য বের করতে অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করবে।
ইসলামী আন্দোলনের দাবি
দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ দাবি করেন, “তদন্ত কমিটিতে নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আহত-নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত চালানো হোক।”
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”