
চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ডে রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫
চাঁদা না দেওয়ার ‘অপরাধে’ রাজধানী ঢাকার দুই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুরান ঢাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার পল্লবীর একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পল্লবীতে হামলা: ৫ কোটি টাকা চাঁদার দাবি
শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তিন সপ্তাহ আগে জামিল নামে এক ব্যক্তি চেয়ারম্যান মো. কাইউম আলী খানের কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় কয়েক দফায় হামলা হয়।
হামলার সময় ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অফিসে ঢুকে হামলা চালায় এবং চারটি গুলি ছোড়ে। এতে শরিফুল ইসলাম নামে একজন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ কে বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান কাইউম আলী খান জানান, গত ২৭ জুন ও ৪ জুলাই দুইবার তাঁদের অফিসে হামলা হয়েছিল। এসব বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল ইসলাম বলেন, “গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।”
পুরান ঢাকায় বর্বরতা: ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে হত্যা
এর মাত্র দুই দিন আগে, বুধবার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁকে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে, পাথর ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাঁকে বিবস্ত্র করে, তাঁর শরীরের ওপর লাফিয়ে নৃশংসতা চালায় হামলাকারীরা।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, মাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণেই লাল চাঁদকে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও মামলার তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে চাঁদাবাজি মূল কারণ। নিহত ব্যক্তি একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ওই সংগঠনগুলো থেকে চারজন আসামিকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জনমনে আতঙ্ক, প্রশাসনের নিশ্চুপতা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাগুলো নিয়ে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেরিতে প্রতিক্রিয়া এবং গ্রেপ্তারে অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়; বরং এটি একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সঙ্কেট। দ্রুত বিচার ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“ সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”