
🟥 আজকের সকালে ভালুকায় গলাকাটা তিন লাশ উদ্ধার: ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্ত্রীর ও দুই সন্তানের হত্যার অভিযোগ
🕒 প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৫, সকাল ১০টা | আপডেট: দুপুর ১২টা
✍️ সংবাদদাতা: মানিকুজ্জামান | স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সত্যকণ্ঠ
ময়মনসিংহের ভালুকায় সোমবার (১৪ জুলাই) সকালের শুরুটা হয়ে উঠল বিভীষিকাময়। ভালুকা পৌর শহরের পনাশাইল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজন—একজন নারী ও তার দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ময়নার স্বামী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, এই নারকীয় ঘটনার পেছনে রয়েছেন তারই ছোট ভাই নজরুল ইসলাম, যিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক।
রফিকুল জানান,
“গতকাল রাত ৮টায় ডিউটিতে যাই। সকালে ৭টার দিকে ফিরে দেখি বাসার গেইটে তালা। কোনো সাড়া নেই। বাড়িওয়ালাকে ডেকে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি—স্ত্রী ও দুই সন্তানের রক্তাক্ত গলাকাটা দেহ খাটের উপর পড়ে আছে। পাশের রুমে থাকার কথা ছিল নজরুলের, কিন্তু সে নেই। ফোন বন্ধ।”
রফিকুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“যে ভাইকে আমি ৪০ হাজার টাকা ধার করে জেল থেকে ছাড়িয়ে এনেছি, সেই আমার জীবন শেষ করে দিল! নিষ্পাপ স্ত্রী-সন্তানদেরও ছাড়ল না… কেন?”
জানা যায়, নজরুল পূর্বে একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং আড়াই মাস আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে রফিকুলের সঙ্গেই থাকছিল। মাঝে মধ্যে স্ত্রী ময়নার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হলেও বড় কোনো ঝামেলার কথা পরিবার জানে না।
নিহত ময়নার বোন আছমা বলেন—
“সকালে খবর শুনে ছুটে আসি। ভেতরে ঢুকে দেখি খাটের উপর তিনটি লাশ। নজরুল-ই করেছে, না হলে সে পালাত কেন?”
বাসার মালিক হৃদয় হাসান বলেন—
“দেড় মাস হলো তারা এই বাসা নিয়েছে। দুটি রুমে থাকত। কখনো ঝগড়া-হাঙ্গামা হয়নি। আজ সকালের দৃশ্য দেখার পর আমরা বাকরুদ্ধ।”
ভালুকা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ সাহা জানান—
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
📌 এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিশুর মুখে এমন মৃত্যু দেখে এলাকাবাসীও বাকরুদ্ধ।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”