কোচিং বাণিজ্য করে হাজার কোটি টাকা লোপাট—জাতিকে মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্র!
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আসাদুজ্জামান
বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং ভালো ফলাফলের তীব্র প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ২০–৩২ হাজার কোটি টাকার এক বিরাট কোচিং-বাণিজ্য। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও এই বাণিজ্য যেন অপ্রতিরোধ্য। শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার হলেও তা এখন পরিণত হয়েছে লাভের বাণিজ্যে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করেন। ফলে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হয় অনবরত চাপ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানহীন পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীরা বিকল্প হিসেবে কোচিংকে বেছে নিতে বাধ্য হয়।
এ ছাড়া অধিকাংশ কোচিং সেন্টার স্থানীয় সরকার সংস্থা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন নিলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো তদারকি থাকে না। এই সুযোগে কিছু অসাধু শিক্ষক প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বাণিজ্যের ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরা কোচিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
কোচিং নির্ভরতার ফলে সৃজনশীলতার চেয়ে মুখস্থবিদ্যার ওপর বেশি জোর দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে সরকার ও আদালত একাধিক নির্দেশ দিয়েছে:
যদিও এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মামলার চাপ, দুর্বল নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং তদারকির অভাব—এই ব্যর্থতার মূল কারণ।
শিক্ষাব্যবস্থার এই সংকট সমাধান জরুরি—না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেধাহীনতার ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা শিক্ষাবিদদের।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।