হিলিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষককে বিদায়ী সংবর্ধনা
প্রতিবেদক: মোঃ সাদ্দাম হোসেন নয়ন, হিলি প্রতিনিধি
যে কোনো বিদায়ই বেদনাদায়ক—তবু দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর শহরে এক আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হক টুকু-এর বিদায়ী সংবর্ধনা। তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
আজ বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, ফুল দিয়ে বরণ, মিষ্টি বিতরণ এবং ফুল দিয়ে গাড়ি সাজিয়ে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাউশগাড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মামুনুর রশীদ, হাকিমপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ জামান আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নওশাদ আলী, হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী, সমাজসেবক মিশর উদ্দিন সুজনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান।
সাবেক শিক্ষার্থী হাফসা খাতুন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন একজন আদর্শবান মানুষ। তিনি আমাকে একদিন বলেছিলেন ‘তুমিই পারবে’—এই কথাই আমাকে জাতীয় পর্যায়ের বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় জায়গা করে দিয়েছে।”
বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক টুকু বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছেন। বিদ্যালয়ে ছাদবাগান থেকে শুরু করে প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন।
অবসর গ্রহণকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল হক টুকু অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘ ২৬ বছর এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজের পরিবারের সদস্য মনে করেছি। কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমা করবেন।”
অনুষ্ঠান শেষে ফুলের মালা পরিয়ে, ফুল দিয়ে সাজানো প্রাইভেট কারে করে অতিথিরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কান্নাভেজা চোখে প্রিয় শিক্ষককে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানায়।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।