ভূমিকম্প কেন হয়?—ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
প্রতিবেদক: আরিফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নবীনগর)
ভূমিকম্প পৃথিবীর একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি শুধু একটি ভূ-প্রাকৃতিক কম্পন নয়; বরং মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তা, আত্মসমালোচনার সুযোগ ও আল্লাহর মহাশক্তির স্মারক। ইসলাম ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনাকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার মধ্য দিয়ে মানুষকে তাঁর প্রতি বিনম্রতা, তওবা ও আত্মশুদ্ধির পথে ডাক দেওয়া হয়।
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ভয় দেখান, যাতে তারা তাঁর সামনে বিনম্র হয়।”
— (সুরা আর-রা’দ, আয়াত ৩১)
হাদীসে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যখন কোনো সমাজে অন্যায়, অপকর্ম ও অশ্লীলতা বৃদ্ধি পায়, তখন আল্লাহ তাদেরকে বিভিন্ন বিপর্যয়ের মাধ্যমে সতর্ক করেন। নবী করিম (স.) বলেন—
“কোনো সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে ভূমিকম্প ও দুর্যোগ দেখা দেয়।”
— (ইবনে মাজাহ)
তবে ইসলাম এটাও স্পষ্ট করেছে, প্রতিটি বিপর্যয়ই যে শাস্তি—তা নয়। অনেক সময় এটি হয় পরীক্ষা (ইমতিহান), যার মাধ্যমে মানুষের ধৈর্য, ঈমান ও নৈতিকতার শক্তি যাচাই করা হয়।
ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্যোগের সময় ইসলাম তওবা করা, ইস্তেগফার বেশি করা, সদকা দান, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়। নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধন, অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা এবং সমাজকে কল্যাণের পথে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন—প্রাকৃতিক দুর্যোগকে শুধু ভয় হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধি, সমাজ সংশোধন ও ঈমানকে মজবুত করার মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।