গ্রাম থেকে শহর, বিদ্যুৎহীন দুর্ভোগ চরমে
🖋️ মোহাম্মদ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি | সত্যকণ্ঠ সংবাদ
দিন নাই, রাত নাই—ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে গাইবান্ধাবাসী। জেলার সাত উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা—সবখাতেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।
জেলা শহরের তুলনায় গ্রামের অবস্থা আরও শোচনীয়। নেসকো এবং গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রাহকদের অভিযোগ—ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, যার ফলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং গরমে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
গ্রামীণ মানুষের ক্ষোভ চরমে
সদর উপজেলার বাদিয়াখলী ইউনিয়নের রিফাইতপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
"দিনভর বিদ্যুৎ থাকে না, সন্ধ্যার পর তো অবস্থা আরও খারাপ। ঘরে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে।"
একই গ্রামের ব্যবসায়ী মাজু মিয়া জানান,
"বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা করি। বারবার অভিযোগ করেও লাভ হচ্ছে না। বিল ঠিকঠাক দিলেও সেবা নেই।"
বাদিয়াখালীর চিশতিয়া ডেকোরেশনের মালিক রনি মিয়া বলেন,
"বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ব্যবসা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। বসে বসে সময় কাটে।"
বিদ্যুৎ বিভাগের সাফাই
অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. আমজাদ হোসেন বলেন,
"তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেসকো, আর ৮১টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”