গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন
প্রতিবেদক: মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর (কামারপাড়া) এলাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে তার আগেই প্রতিমাগুলো ভস্মীভূত হয়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, মন্দির নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিলে বাধ্য হয়ে মন্দির কমিটি দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করে। গত ৫–৬ দিনে কারিগররা বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা টুলুও জানান, প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী।
ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার জানান, “রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুতই দোষীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, “মন্দির নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা শিগগিরই উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসবো।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাতে তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”