গাইবান্ধায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রতিবেদক: মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের উত্তর রামনাথের ভিটা গ্রামে শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম নবাব হোসেন (৪০), তিনি মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
গত শনিবার (২৭ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে পুত্রবধূকে একা পেয়ে নবাব হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ বছর ২ মাস আগে নবাব হোসেন তার ছেলে সৌরভ মিয়ের বিয়ে দেন পলাশবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের তিনদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের সামিউল ইসলামের মেয়ে ছুমাইয়া আক্তার সুবর্ণার সঙ্গে।
বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর নবাব হোসেন পুত্রবধূকে নানা অমানবিক নির্যাতন ও যৌন লালসার শিকার করে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী সৌরভ মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রী হওয়ায় প্রায়ই কাজের কারণে বাড়ির বাইরে থাকতেন। কিছুদিন আগে সৎ শাশুড়িও স্বামীর সঙ্গে কলহের কারণে বাবার বাড়িতে চলে যান, ফলে সুবর্ণা প্রায়ই একা থাকতেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ৫ মাস আগে নবাব হোসেন জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটান। বিষয়টি পরিবার জানলেও সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে শ্বশুরের ক্ষমা প্রার্থনার পর মীমাংসা করা হয়েছিল।
শনিবার বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নবাব হোসেন আবারও পুত্রবধূকে মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। চিৎকার দিলে তিনি পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সহায়তায় বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আমার মেয়েকে বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর নানা বলেন, “আমার নাতনিকে পিতৃতুল্য শ্বশুর যে জঘন্যতম কাজ করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্ত নবাব হোসেন পলাতক রয়েছেন।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”