
প্রতিবেদক: মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা জেলা
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন পাঁচপীর বাজার থেকে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা সদর দপ্তরের সাথে সংযোগকারী তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ১,৪৯০ মিটার দীর্ঘ মওলানা ভাসানী সেতুর ফলক ও ম্যুরাল উন্মোচন করে শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
উদ্বোধনোত্তর মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহামদ, গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজ কুমার বিশ্বাস সহ স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ।
সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে আনন্দের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারিবাসী এলাকায় উদ্দীপনার ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
উল্লেখ্য, এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১,৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি এলজিইডির একটি বৃহৎ প্রকল্প, সৌদি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন পিসি দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জমি অধিগ্রহণ, মূল সেতু, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, উন্নত লাইটিং ব্যবস্থা, সম্প্রসারণ এবং নদী শাসন। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকা।
সেতুটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ২৯০টি পাইল, ১৫৫টি গার্ডার, ৩০টি পিলার, ২৮টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সেতুর দুই পাশে প্রতিটি দেড় কিলোমিটার নদী শাসন করা হয়েছে। এছাড়া ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু সংযোগ সড়কে ৫৮টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সেতুর ফলক উন্মোচন করা হলেও প্রকল্পের কাজ শুর হয় ২০২১ সালে। ২০২৪ সালের জুনে অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও নানা জটিলতা কাটিয়ে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় সড়কপথে যাতায়াতের সময় প্রায় ৪ ঘণ্টা কমে আসবে, এবং ঢাকার দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার কমবে।
সেতুটি খুলে দেওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনমানের মানোন্নয়নে বড় পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়েত ও কৃষি পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে, এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে, যা এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”