
📰 নেত্রকোনায় আন্দোলনের মুখে রেলের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত
প্রতিবেদক: মোস্তাক আহম্মেদ রকি
জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় আন্দোলনের মুখে স্থগিত করা হয়েছে রেলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। সোমবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কথা থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মুখে তা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতপাই রেলক্রসিং সড়কে অভিযান পরিচালনাকারী রেল কর্তৃপক্ষ আটকে থাকায় সড়কে তীব্র যানজট এবং জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সমঝোতা হয়।
সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তবে যারা বৈধভাবে লিজ নেয়া কাগজপত্র দেখাতে পারবে, তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে না।
রেলের পক্ষ থেকে ডেপুটি কমিশনার, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আলোচনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. মনিরুজ্জামান দুদু বলেন, “রেলের জমি কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত তা নির্ধারণ করে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি যুবলীগ নেতা আরাফাত উল্লাহ জুয়েলের নামে থাকা ৮৪টি দোকানের অধিকাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, তার লিজ বাতিল করতে হবে।”
গৌরীপুর রেলওয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. কামরুজ্জামান বলেন, “১৮৬১ সালের ৫ নং আইনের ১২ ধারামতে, রেললাইনের দু’পাশে ২০ থেকে ২৫ ফুট পর্যন্ত এলাকা আইনত নিরাপত্তাজনিত কারণে খালি রাখতে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।”
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম সবুজ জানান, “আমরাও চাই রেললাইনের পাশে অবৈধ স্থাপনা না থাকুক। তবে ১৯৯৩ সালের মাস্টারপ্ল্যানে ৮৪টি বৈধ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, এর বাইরে যাদের দোকান রয়েছে, তাদের উচ্ছেদ হোক।”
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, এর আগেও রেল কর্তৃপক্ষের পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি অর্থ আদান-প্রদান করেছে স্থাপনা না সরানোর শর্তে। যদিও রেলওয়ে সার্ভেয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রেলের ডেপুটি কমিশনার (ভূমি ও স্থাপনা) মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাসের সুপারিশে আগেও সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে টাকা নিয়ে সময় দেওয়া হয়েছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই অভিযান স্থগিত করেছি এবং আগামী এক মাসের মধ্যে বৈধ কাগজ দেখাতে না পারলে উচ্ছেদ করা হবে।”
🟢 শেষ কথা:
👉 “সত্য প্রকাশে আমরা সাহসী, আমরা সচেতন” — দৈনিক সত্যকণ্ঠ