
📰 তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনার ঝড়, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি
✍️ রাজনৈতিক ডেস্ক | দৈনিক সত্যকণ্ঠ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিগগিরই দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর আগমনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। যদিও এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে আগামী আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আভাস দিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।
বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু দলীয় নয়, জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে দলের পক্ষ থেকে ঢাকায় বিশাল গণ–অভ্যর্থনা এবং সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি শুধু আবেগ নয়, রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ নানা দিক পর্যালোচনা করে সঠিক সময় বেছে নেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁর প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে একটি বড় অর্জনে পরিণত হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের মধ্যে ফেরার প্রস্তুতি থাকলেও বর্ষা মৌসুমের বৈরী আবহাওয়া বিষয়টিকে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে তাঁর থাকার প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এই বাড়িটি তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার নামজারি সম্পন্ন করে বিএনপি নেত্রীর কাছে হস্তান্তর করে।
বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস ও প্রস্তুতির দৃশ্য চোখে পড়ছে। সাবেক একটি জনপ্রিয় স্লোগান আবার ফিরে এসেছে—
“তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে।”
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতা গণমাধ্যমে বলেন, “তিনি শিগগিরই ফিরছেন।” যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
গত ১৩ জুন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ও ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
২০০৭ সালে গ্রেপ্তার ও ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তির পর লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন,
“তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের দিক থেকে কোনো বাধা নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন,
“তারেক রহমানের ফেরা হতে পারে একটি নির্বাচনী শোডাউন, যা রাজনৈতিক বার্তা দেবে। হয়তো সেই উদ্দেশ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
📍 পরিশেষে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এটি বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করতে পারে।
🗞️ দৈনিক সত্যকণ্ঠ
🔚 “সত্য প্রকাশে আমরা সাহসী, আমরা সচেতন” – দৈনিক সত্যকণ্ঠ