
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার একসময় ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। এই কথা জানিয়েছেন তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক চোট এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার চাপের কারণে এমন সিদ্ধান্তের কথা তার মাথায় এসেছিল।
বর্তমানে নেইমার মেনিস্কাসের চোটে ভুগছেন। গত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়। ইউটিউবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার সিনিয়র জানান, চোটের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই নেইমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, আগের মতো চাপ সামলানো আর সম্ভব নয় এবং অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল।
বাবার চোখে তখন নেইমারের মধ্যে গভীর হতাশা লক্ষ্য করা যায়। তিনি দুইটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন— চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে সমালোচকদের জবাব দেওয়া এবং বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ধরে রাখা। নেইমার সিনিয়র বলেন, অস্ত্রোপচারের পুরো প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার আশ্বাসই ছেলের মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনে।
পরদিনই নেইমারের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি আবার অনুশীলন শুরু করেন, দুই পা দিয়েই শট নেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। মাঠে নেমে গোল করার পর বাবাকে জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে ব্রাজিলের সিরি আ লিগে মৌসুমের অর্ধেক সময় খেলতে পেরেছিলেন নেইমার। সেখানে তিনি আটটি গোল করেন, যার চারটি আসে মৌসুমের শেষ দিকে। এই গোলগুলোই দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ মৌসুম শুরুর আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন এবং তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।