
দীর্ঘ ৩ মাস ৭ দিন পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু
প্রতিবেদক: সাদ্দাম হোসেন নয়ন, হিলি প্রতিনিধি
দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের সীমিত পরিসরে আমদানির সিদ্ধান্তের এক দিন পরই দীর্ঘ তিন মাস সাত দিন বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে একটি ট্রাকে প্রায় ৩০ টন পেঁয়াজ ঢোকার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের পুনরারম্ভ ঘটে।
এতে হিলির বাজারে ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খবরে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজিতে ২০–৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আমদানিকারক প্রতিনিধি রকি মিয়া জানান, দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার যে অনুমতি দিয়েছে, তার আওতায় ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ নিয়ে ট্রাকটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, “আমদানি বাড়লে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।”
প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ মার্কিন ডলার দরে কেনা হয়েছে, ইনভয়েস অনুযায়ী দাম পড়েছে ২৪৫ ডলার।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, প্রথম ধাপে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম মনে করেন, আমদানির সিদ্ধান্ত আরও আগে হলে বাজারের অস্থিতিশীলতা কমে যেত। তিনি সরকারের কাছে নতুন করে আইপি অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, “মাত্র ১২০ টন খুবই কম। আগে ৪-৫ হাজার টন পর্যন্ত আইপি দেওয়া হতো।”
হিলি আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হকও একই মত প্রকাশ করে বলেন, ভারত থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ প্রবেশ করলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং দাম আরও কমবে।
হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা বাধন জানান, পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে কাস্টমস সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
স্থানীয় বাজারে আজ দেশি কাঁচা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০–৮৫ টাকা, যা গতকাল ছিল ৯৫–১০০ টাকা। শুকনো পেঁয়াজ আজ বিক্রি হয়েছে ১০০–১১০ টাকা, যা শনিবার ছিল ১০০–১৪০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নিয়মিত আমদানি শুরু হলে পেঁয়াজের দাম আরও কমবে এবং বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।