
বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
প্রতিবেদক: সাদ্দাম হোসেন নয়ন, হিলি প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হিলি হাকিমপুর উপজেলায় লাগাতার বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকা আমন ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। ঘাম ঝরানো ফসল এভাবে নষ্ট হতে দেখে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
গত কয়েকদিন ধরে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কখনো প্রবল বৃষ্টি, কখনো ঝড়ো বাতাসের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন ধানক্ষেতে পানি জমে গেছে এবং ধানের গাছ পড়ে গেছে মাটিতে।
১নং খোট্টা মাধবপাড়া ইউনিয়নের কৃষক মোঃ আলীম ইসলাম বলেন,
“ধান কাটার শুরুতেই এমন আবহাওয়া হলো। বাতাসে ধান পড়ে গেছে, এখন কেটে ঘরে তোলা কষ্টকর। শ্রমিক খরচ বাড়বে, শুকানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
একই এলাকার কৃষক মোঃ মিলন ইসলাম বলেন,
“দ্রুত রোদ না উঠলে কাটা ধান শুকানো যাবে না। ভেজা অবস্থায় ঘরে তুললে ধান পচে যাবে, রং পরিবর্তন হবে — তখন বাজারেও কেউ কিনবে না।”
কৃষক মোঃ কামরুজ্জামান শুভ বলেন,
“এই ধান বিক্রি করেই আমরা সংসার চালাই ও ঋণ পরিশোধ করি। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সেই আশা ভেঙে যাচ্ছে। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বা দাম না পেলে ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা আছে।”
তিনি আরও জানান,
“এবার ফলন ভালো হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। বিশেষ করে নিচু জমির ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন,
“সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও বাতাসে কিছু এলাকায় আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।”
এদিকে কৃষকদের আশঙ্কা—আবহাওয়া আরও কয়েকদিন খারাপ থাকলে ধানের গুণগত মান নষ্ট হবে, ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে না।
এখন হিলির কৃষকদের একমাত্র প্রত্যাশা—আকাশ দ্রুত পরিষ্কার হোক, রোদ ফিরে আসুক। কারণ এই রোদেই নির্ভর করছে তাদের সারা বছরের পরিশ্রমের সার্থকতা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।
সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে।