
থামছে না লুট: তাহিরপুরে বালুভর্তি নৌকা আটক, আটক ২
প্রতিবেদক: মোঃ ইসমাইল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আবারও প্রকাশ্যে ধরা পড়ল বালু লুটের চক্র। সোমবার (২৫ আগস্ট) ভোরে রতনশ্রী গ্রামের জনতা বৌলাই নদী দিয়ে পাচারের সময় বালুভর্তি একটি বাল্কহেড আটক করে। পরে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু জব্দ করে এবং দুইজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
স্থানীয়রা জানান, শান্তিপুর নদী থেকে রাতের আঁধারে দীর্ঘদিন ধরে বালু লুট চলছে। যদিও সম্প্রতি থানার ওসি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন— “শান্তিপুর নদী থেকে কোনো বালু লুট হচ্ছে না”— সেই বক্তব্যের ঠিক ৮ দিন পরই জনতার হাতে ধরা পড়ে বালুভর্তি নৌকা।
গ্রামবাসীর দাবি, পাচার হওয়া বালু উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মজুত রাখা হয়। এর মধ্যে গাজীপুর, টাকাটুকিয়া, চিকসা, কাউকান্দি প্রধান কেন্দ্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ১০ হাজার ঘনফুট বালুর জন্য দুই লাখ টাকা উৎকোচ আদায় করা হয়, যার ভাগ পায় প্রশাসনের একাংশ ও চক্রের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট সদস্যরা।
আটকৃতরা হলেন— বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেহেলী অনন্তপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে তামিম আহমদ এবং একই উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের বাগগাঁও গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে উসমান মিয়া।
তাহিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন—
“গ্রামবাসীর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ১৫০০ ঘনফুট বালু ভর্তি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে এবং দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিকালে থানায় মামলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরুখ আলম শান্তনুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বালুভর্তি নৌকা জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শান্তিপুর নদীর দুই তীরের অন্তত ২০–৩০টি গ্রাম ও শত শত একর ফসলি জমি আজ হুমকির মুখে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের অভিযান থাকলেও মূল হোতারা অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে, ধরা পড়ছে শুধু নৌকার শ্রমিক।
সত্যকণ্ঠ সংবাদ
“সত্য বলার সাহসই সত্যকণ্ঠ — নির্ভীক, নিরপেক্ষ, ন্যায়ের পথে”